বৃত্তবন্দী

 গল্পের সুত্রপাত হয় মোহাম্মাদপুরের একটা ভাড়া বাসা থেকে। মুক্তা নামের একজন স্কুল শিক্ষিকা বাসাটা ভাড়া নেয়। স্বামী এবং এক সন্তান নিয়ে তার সংসার। সে জানায় যে তার স্বামী ভালুকাতে চাকরি করে সপ্তাহে একদিন আসবে। সামনে মাসে তার নতুন বাসায় ওঠার কথা। এর ফাকে মাঝে মাঝে সে বাসায় এসে জিনিসপত্র এনে রাখছে। এমনই একদিন সে আসে জিনিসপর রাখতে। তবে সেদিন আর সে ফেরত যায় না। বাড়িওয়ালা যখন দরজা ভেঙ্গে ভেতরে ঢোকে তখন সেখানে ভয়ংকর ভাবে মুক্তাকে হত্যা করা হয়েছে। খুন করার পর মুক্তার গলা কেটে কণ্ঠনালী এবং বুক চিরে হৃৎপিণ্ড ও জরায়ু বের করে নেওয়া হয়। তারপর হৃৎপিণ্ড বের করে সেই শূন্য স্থানে একটি তাজা সবুজ আপেল বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। হত্যার তদন্ত নামে পিবিআইয়ের দক্ষ একজন গোয়েন্দা মুহিত। তার সঙ্গী হয় এসআই ইরান। তবে মুহিত পার্টনারের সাথে কাজ করার ব্যাপারে সমস্যা থাকে। সে কাউকে ঠিক বিশ্বাস করতে পারে না। সে কিছুটা মানসিক সমস্যার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। তার মেন্টর এবং সহকর্মী রাজিব তার সামনেই আত্মহত্যা করেছিল। তারপর থেকে সে এমন আচরণ করে আসছে। দুইজন পার্টনার বদল করেছে। এবার ইরানের পালা। ইরান সদ্য একাডেমি থেকে পাস করে এসেছে। তার বাবার ভাল প্রভাব প্রতিপত্তি থাকলেও সে নিজের যোগ্যতায় এই চাকরি হাসিল করেছে নিজেকে খুজে পাওয়ার জন্য। মুহিতের কঠিন স্বভাবের সাথে মানিয়ে নিয়ে সে তদন্তে এগিয়ে চলে। আস্তে আস্তে তদন্তের আগ্রগতি হতে থাকে এবং তারা খুনের কিনারা করে ফেলে। খুনী টের পেয়ে পালিয়ে যায়। তাকে আর ধরা যায় না। মাস ছয়েক পরে আবারও একটা খুন হয়। এবার খুনী ভিক্টিম অজিতের গলায় সবুজ আপেল খুজে দেয়। মুক্তা এবং অজিত দুজন ঠিক কিভাবে পরিচিত সেই খোজ তারা বের করতে নেমে পড়ে। ধীরে ধীরে রহস্যের জট খুলতে থাকে। এই সব রহস্যের সুত্র যুক্ত থাকে ইরানের অতীতের সাথে আর ১৭ বছরের আগের কোন এক বৈজ্ঞানিক এক্সিপেরিমেন্টের সাথে।

অনেকদিন পরে বেশ চমৎকার একটা থ্রিলার পড়লাম। একেবারে শেষ পর্যন্তই গল্পের মনযোগ ছিল। কিছু কিছু টুইস্ট আগে থেকেই অনুমান করতে পেরেছিলাম যা শেষ পর্যন্ত ঘটেছে তবে শেষ টুইস্টটাও বেশ চমৎকার ছিল। 

তবে ইরানের অতীতের সাথের সংযোগটা যেন একটু বেশি কাকতালীয় মনে হয়েছে আমার কাছে। এছাড়া বাকি সব কিছুই চমৎকার ছিল। মানুষের মনের ভেতরের অন্ধকার দিক, অপরাধের পেছনের মনস্তত্ত্ব এবং নিখুঁত তদন্তের এক চমৎকার মিশ্রণ এই উপন্যাস। যারা একটু ডার্ক, সাইকোলজিক্যাল এবং মাথা খাটানো থ্রিলার পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি একটি অবশ্য পাঠ্য বই।। সময় ভাল কাটবে আশা করি।



 বৃত্তবন্দী

লেখক তাকরীম ফুয়াদ