যেকোনো বই যখন প্রকাশ পাওয়ার আগেই হাইপ তোলে, তখন আমি মোটামুটিভাবে নিশ্চিত হই যে এই বই আমার মনমতো হবে না। এমনটা আমার সাথে বারবার হয়েছে। তারপরেও আমি সেই হাইপ ওঠা বই কেনা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারিনি। মনের ভেতরে একটা লোভ থেকেই যায় যে—যদি বইটা ভালো হয়ে যায়! ‘লয় ভাগছে’ বইটার বেলাতেও এর ব্যতিক্রম হলো না। বইয়ের ব্যাপারে আমি যেমনটা আশা করেছিলাম, বইটা আমার প্রত্যাশার সিকিভাগও পূরণ করতে পারেনি। সত্যি বলতে কি, যদি এই বইটার ব্যাপারে শূন্য প্রত্যাশা নিয়ে পড়া শুরু করতাম, তবে বইটা শেষ করে হয়তো কিছুটা ভালো অনুভব করতাম।
ভৌতিক গল্প আমি সবসময় পছন্দ করি। তাই সম্ভবত এই বইটার ব্যাপারে আমার আগ্রহ ছিল আরও বেশি। তবে সেই আশায় গুড়ে বালি। শুরুতেই বইটার ওপর একটা বিরক্তি এসে হাজির হলো। এর কারণ হচ্ছে বইয়ের শুরুতে থাকা আজব প্যাঁচাল। এগারোটা পেইজে বেহুদা প্যাঁচাল দিয়ে ভর্তি, আর কিছুই না। এটা আমার অনেক দিনের অভ্যাস যে, একটা বই পড়া শুরু করার কয়েক পেইজের ভেতরেই বইটার ব্যাপারে আমার একটা ভালো লাগা বা মন্দ লাগা তৈরি হয়ে যায়। শুরুতেই এই বিরক্তিকর প্যাঁচালটা যদি না থাকত, তবে হয়তো বইটা আমার কাছে আরও একটু ভালো লাগত।
বইটা আমার আহামরি কিছু মনে না হওয়ার কারণ হচ্ছে বইয়ের গল্প বলার ধরন। মূলত আপনারা যারা ‘ভূত এফএম’ শুনেছেন কিংবা বাবু ভাইয়ের ‘অদ্ভুতুড়ে’ শোনেন অথবা ইউটিউবে ভূতের গল্প শুনে থাকেন, তাদের কাছে এই বইয়ের গল্প বলার ধরনটা একেবারে পরিচিত মনে হবে। একটা পডকাস্ট কিংবা ইউটিউবে অডিও গল্পগুলো যেভাবে বলা হয়, এই বইয়ের গল্পগুলোও সেই রকম। তবে গল্পগুলো যে একেবারে বাজে সেটা আমি বলব না। আবার একেবারে খুবই উন্নত মানের, সেটাও না। আগেই বলেছি, যারা ইউটিউবে ভূতের গল্প শোনেন, তাদের কাছে এই গল্প বিশেষ কিছুই মনে হবে না। আপনার কাছে মনে হবে যে আপনি আরেকটা ভূতের গল্পের এপিসোড পড়ছেন। ইউটিউবে হয়তো শুয়ে শুয়ে শুনতেন, আর এখানে আপনাকে পড়তে হচ্ছে। এসব গল্প আসলে ইউটিউবে শুনতেই বরং ভালো লাগে, টাকা দিয়ে কিনে পড়তে নয়। এছাড়া লেখকদের লেখার ভেতরে অপরিপক্কতা রয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় বেশি স্মার্টনেস দেখাতে গেছেন, যা পাঠক হিসেবে আমার মনে কেবল বিরক্তির উদ্রেকই ঘটিয়েছে।
যারা ভূতের গল্পের অতি ভক্ত তারা এই বই কিনতে পারেন, তবে পড়া শুরুর আগে কোনো আশা রাখবেন না। শূন্য প্রত্যাশা নিয়ে পড়া শুরু করবেন, তবে হয়তো কাজ চলে যাবে।
রেটিং: ২.৫/৫
