দ্য হাউজ হোয়্যার আই ডাইড ওয়ান্স

 প্রত্যেকটা স্বাভাবিক মানুষ তার শৈশবের সব কথা মনে রাখতে পারে না। কিন্তু এমন যদি হয় শৈশবের কোন ঘটনাই তার মনে নেই তবে সেই ব্যাপারটাকে কি স্বাভাবিক বলা যায়? সায়াকা কুরাহাশির বেলাতেও ঠিক একই ব্যাপার ঘটেছে। তার শৈশবটা আসলে কেমন ছিল সেটার ব্যাপারে তার কিছুই মনে নেই। সায়াকা নিজের মানসিক অবস্থার পেছনে তার এই শৈশবের স্মৃতি হারিয়ে ফেলাটাকে দায়ী করে। সে তার মেয়েকে না চাইতেও মারধোর করে, নিজেকে সে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এক সময়ে সে মনে করে যে তার নিজের মেয়ে তার কাছে নিরাপদ নয়। তাই মেয়েকে রেখে আসে শ্বশুর-শ্বাশুড়ির কাছে। তবে মানসিক এই অবস্থার আসল কারণ সে খুজতে চায়। এই জন্য সায়াকা তার প্রাক্তন প্রেমিকের সাথে যোগাযোগ করে সাহায্য চায়। প্রাক্তনের লেখা আর্টিকেল পড়েই তার এমন একটা ধারণা হয়েছে যে এসবের পেছনে তার শৈশব জড়িত। সে জানতে চায় শৈশবে তার সাথে কী হয়েছিল। সুত্র বলতে তার বাবার রেখে যাওয়া একটা ম্যাপ আর একটা অদ্ভুত দর্শন চাবি। সেই ম্যাপ দেখে দেখে, প্রাক্তনকে সাথে নিয়ে সে হাজির লোকালয় থেকে দুরে সেই পাহাড়ের পাদদেশে নির্জন এক বাড়ির সামনে। 

বাড়িতে ঢোকার সব দরজা বন্ধ। তবে এক সময়ে তারা প্রবেশের একটা পথ খুজে পায়। বেজমেন্টের মুখের এক অদ্ভুত দরজা থাকে এবং সেই দরজায় তালাটা খোলার জন্য ব্যবহৃত হয় সায়াকার বাবার রেখে যাওয়া চাবিটা। তার মানে দাঁড়ায় যে সায়াকার বাবা এই বাড়িতে আসত। এটাই কি সায়াকার শৈশবের বাড়ি? কিন্তু সায়াকার এই বাড়ি নিয়ে কোন স্মৃতিই মনে পড়ে না। 

তারা বাড়িতে ভেতরে ঢোকে। প্রথম দর্শনে এটা পরিষ্কার হয় যে বাড়িটা পরিত্যক্ত অনেক দিন থেকেই। কিন্তু এমন না যে বাড়িটা কেউ পরিত্যাক্ত করে চলে গেছে বরং দেখলে মনে হবে যে বাড়িটাতে এক সময় মানুষ থাকত তারপর একদিন তারা হঠাৎ করে সব কিছু রেখে চলে গেছে। কারণ তাদের ব্যবহারের সব জিনিসপত্র সেভাবেই রয়ে গেছে। সব জিনিসপত্র রয়েছে সাজানো গোছানো। সব জিনিসপত্রের উপরে ধুলোর স্তর পড়ে আছে। অনেকদিন এই বাড়িতে কেউ আসে নি। 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে কী এমন ঘটনা ঘটেছিল যে বাড়িতে বসবাসকারী মানুষগুলো সব কিছু ছেড়ে ছুড়ে চলে গেল? আর সায়াকার বাবাই বা এই বাড়িতে কী করছিল? সায়াকা যে এই বাড়িতে বড় হয় নি এটা সায়াকা একেবারে নিশ্চিত। তাহলে তার বাবার সাথে এই বাড়ির সম্পর্ক কী? শুরুতে একটা ব্যাপার দুজনের চোখে পড়ে, তা হচ্ছে বাড়ির সমস্ত ঘড়ি একটা নির্দিষ্ট সময়ে গিয়ে আটকে আছে—১১ টা ১০ মিনিটে। এই থেকে একটা ব্যাপারে তারা নিশ্চিত হল যে এই কাজটা কেউ করেছে ইচ্ছেকৃত ভাবে। সব কিছু ছেড়েছুড়ে চলে যাওয়াটাও ইচ্ছেকৃত। 

সায়াকা এবং তার প্রাক্তন মিলে সব বাড়িঘরের জিনিসপত্র পরীক্ষা করে বুঝতে পারে যে এই বাড়িতে তিনজনের একটা পরিবার ছিল। বাবা মা এবং তাদের এক ছেলে। জিনিসপত্র খুজতে খুজতে তারা সেই ছেলেটার একটা ডায়েরি খুঁজে পায়। সেই ছেলেটির নাম ইউসুকে। সেই ডায়রি পড়েই পরিবার সম্পর্ক অনেক কিছু জানতে পারে। তবে একেবারে নিশ্চিত ভাবে কিছু বলার উপায় থাকে না। এভাবেই আস্তে আস্তে ঘটনার পুরোটা দুজন মিলে অনুমান করে নেয়। এক সময়ে আসল ঘটনাটা তারা বুঝতে পারে। যদিও একেবারে নিশ্চিত হওয়ার উপায় থাকে না। দুজন মিলে একের পর এক ঘটনা মিলিয়ে এগিয়ে যেতে থাকে। সব থেকে যে ঘটনাটা সামনে দাঁড়ায় সেটা যেমন হবে সেটা না সায়াকা ভেবেছিল না তার প্রেমিকা। সত্যটা জেনে যেন পুরো পৃথিবীটাই নড়ে ওঠে সায়াকার। 

এটাই হচ্ছে ‘দ্য হাউজ হোয়্যার আই ডাইড ওয়ান্স’ বইটার মূল গল্প। বইটার লেখক কেইগো হিগাশিনো। এটা সম্ভবত তার লেখক জীবনের শুরুর দিককার লেখা। বইটা শেষ করে আমি কিছু সময় থ হয়েই ছিলাম। আসলে গল্পটা যে এইদিকে মোড় নিবে সেটা আমি মোটেই ভাবতে পারি নি। গল্পের শুরুটা হবে একেবারে সাধারণ ভাবে। প্রাক্তন প্রেমিকার সাথে দেখা করতে যাবে। কথা বার্তা বলে তারপর দুজন মিলে যাবে সেই নির্জন বাড়ির সামনে। তারপর প্রতিটা লাইনের সাথে একটু একটু করে কাহিনী এগিয়ে যাবে সামনে, একটু একটু করে পুরো গল্পটা চোখের সামনে ভেসে উঠবে। গল্পটার ভেতরে কোন টানটান উত্তেজনার গল্প নেই আবার এমনও না যে বড় কোন ক্রাইমের পেছনে কোন তুখোর গোয়েন্দা কাজ করছে। মূলত গল্পের মূল দুই চরিত্র খুবই সাধারণ দুইজন মানুষ যারা নিজেদের সাধারণ বুদ্ধি দিয়ে কোন একটা ঘটনা রহস্য ভেদ করার চেষ্টা করছে। এখানেই এই বইটা অন্য যে কোন থ্রিলার থেকে আলাদা। 

বইটা খুব বেশি বড় না। অনুবাদ করেছেন সালমান হক। আশা করি পড়ে ভাল লাগবে। 

 
ছবিঃ সংগ্রহকৃত

বইয়ের নামঃ দ্য হাউজ হোয়্যার আই ডাইড ওয়ান্স
লেখকঃ কেইগো হিগাশিনো
অনুবাদঃ সালমান হক