রাতি লোকাল থানায় গিয়ে হাজির হয়। সেখানে থানার ইনচার্জ ভিপিন রাতিকে প্রথম দেখাতেই তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে যায়। থানার অন্যেরা রাতির অভিযোগ না শুনতে চাইলেও সে রাতির অভিযোগ শোনে মন দিয়ে। হোটেল স্টাফদের সাথে কথা বলে। খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারে যে রাতির মানসিক কিছু সমস্যা আছে। তারপরেও সে বিশ্বাস করে যে আয়ান রাতির বানানো কোনো চরিত্র নয়। সে তার লোক দিয়ে আলাদাভাবে খোঁজখবর করে। তখনই সে জানতে পারে যে আয়ান আসলে বানানো কোনো চরিত্র নয়। তবে এটাও সত্য যে যেদিন রাতি গোরগাঁও থেকে সিকিমের প্লেন ধরেছিল সেই সময়ে শেষ মুহূর্তে আয়ান এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে যায়। অর্থাৎ সে রাতির সাথে সিকিমে আসেনি। রাতি একাই জোঙ্গুতে এসেছে। একাই রিসোর্টে চেকইন করেছে। হোটেল স্টাফরা মিথ্যা বলে নি। তাহলে রাতি যে বলছে রাতে সে আয়ানের সাথে থেকেছে সেটা কী? যদি রাতে থাকবেই তাহলে তাকে কেউ দেখেনি কেন? এই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। তারপর রিসোর্টের মালিকের ভাগ্নে কে রাতির অদ্ভুত কেন মনে হল? আয়ান একদিন পরে ঠিকই এসেছিল জোঙ্গুতে তবে তখন তার সাথে অন্য এক মেয়ে ছিল। সেই মেয়েটাই বা কে? আয়ান যদি একই সাথে দুইজনের সাথে প্রেম করে থাকে তাহলে একই সাথে দুজন প্রেমিকাকে একই জায়গায় নিয়ে আসার মানে কী এটা কি বোকামি নয়? তারপর রাতের বেলা রিসোর্টের মালিককে কে ধাক্কা দিয়ে পাহাড় থেকে ফেলে দিল আর কেনই বা দিল! এই রকম আরও অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলবে বইতে।
সত্যি কথা বলতে কী এই বইটার থেকে আমি আরও বেশি কিছু আশা করেছিলাম। একটা বুক রিভিউ দেখে বইটা পড়ার জন্য আমার প্রবল আগ্রহ জন্মে কিন্তু কোথায় খুঁজে পাইনি। শেষে বাধ্য হয়ে ইন্ডিয়া থেকে আনাতে হয়েছে। কিন্তু যেই আগ্রহ এবং সময় আমি বইটার পেছনে দিয়েছি বইটা আমার আশা ততখানি পূরণ করতে পারেনি। লেখক যদি জাস্ট একটা অধ্যায় না লিখত বা অধ্যায়টা আরও কয়েকটা অধ্যায়ের পরে বসাতো তাহলে বইটা আরও বেশি আকর্ষনীয় হত। এই একই প্লট নিয়েই খুব চমৎকার একটা বই হতে পারত।
