মাসকারেড হোটেল

 টোকিও শহরের বিলাসবহুল ফাইভ স্টার হোটেল। সেই হোটেলের একজন ফ্রন্ট ডেস্ক ম্যানেজার নাওমি। সে তার কাজের প্রতি খুবই নিষ্ঠাবান। হোটেলের বড় কর্মকর্তারা তার উপর ভরসা করে। নাওমিকে একদিন তার বসদের অফিসে ডাকা হয়। নাওমি সেখানে গিয়ে অদ্ভুত এবং ভয়ংকর একটা ব্যাপার জানতে পারে।

তাকে জানানো হয় যে তাদের হোটেলে কদিনের ভেতরেই একটা খুন হবে। এই খুনটা করবে একজন সিরিয়াল কিলার। এই সিরিয়াল কিলার ইতিমধ্যে চারজনকে খুন করে ফেলেছে। এবং তার পরবর্তী খুনটা হোটেলেই হবে। নাওমি কিছুতেই বুঝতে পারে না। তার মনে নানান প্রশ্ন এসে হাজির হয়। তবে তখনই তার ম্যানেজার কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয় না। কেবল তাকে জানানো হয় যে কয়েকজন পুলিশ অফিসার এখন থেকে হোটেলে এসে হাজির হবে। তারা হোটেলের কর্মী সেজে প্রতিটি গেস্টের উপর নজর রাখবে। নাওমির দায়িত্ব হবে সেই সব পুলিশ অফিসারদের প্রথমে হোটেলের নিয়ম-কানুন শেখানো এবং তাদের সাথে থেকে তাদের সাহায্য করা। নাওমির সামনে আর কোনো পথ খোলা না থাকায় সে রাজি হয়ে যায়। বেশ কয়েকজন অফিসার এসে হাজির হয়। তাদের ভেতরে একজন কোশুকে নিত্তা। নাওমির প্রথম প্রথম নিত্তার সাথে কাজ করতে সমস্যা হয়। নিত্তা কোনোভাবে হোটেলের নিয়ম-কানুনের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছিল না। তবে এক সময়ে ধীরে ধীরে নিত্তা মানিয়ে নেয়। পুরোদস্তুর হোটেলের কর্মী হয়ে যায়।

একের পর এক গেস্ট আসতে শুরু করে আর প্রতিদিন নানান রকম ঘটনা ঘটতে থাকে। সেই সাথে পুলিশের খোঁজ চলতে থাকে। এবং আস্তে আস্তে পুরো গল্পটা ফুটে উঠতে শুরু করে। কীভাবে চারটি খুন হল, একটা খুনের সাথে অন্য খুনের বিন্দুমাত্র সম্পর্ক থাকে না। খুনের ধরন বা কোনো ভিকটিম অন্য কোনো ভিকটিমকে চেনে না, এমন খুনের ভেতরে কোনো প্যাটার্ন পর্যন্ত নেই। কিন্তু খুনি প্রতিটি খুনের পর পরবর্তী খুনের ক্লু রেখে যায় লাশের আশেপাশে। সেই কোডেই পাওয়া যায় পরবর্তী খুনের স্থান। এভাবেই পুলিশ জানতে পারে যে পরের খুনটা হোটেলে হবে। কিন্তু কে খুন করবে আর কে খুন হবে সেটার ব্যাপারে কোনো ধারণাই কারো থাকে না। তাহলে পুলিশ কীভাবে খুনটা আটকাবে?

বইটা আমি শেষ করি একেবারে একটানে। পঞ্চগড় থেকে ট্রেনের লম্বা জার্নিতে একটানে বসে বইটা শেষ করেছি। বলা যায় বইয়ের ভেতরে আমি ঢুকে গিয়েছিলাম। সামনে কী হবে সেটা না জেনে আমার শান্তি ছিল না। অনেক দিন পরে এমনভাবে একটা বই পড়ে আমি শেষ করলাম। একদিকে ট্রেনের দুলুনি আর আমি সিটের উপর পা তুলে বসে একটানে বই পড়েই চলেছি। অন্য কোনো দিকে আমার কোনো খোঁজ নেই।