Thursday, April 23, 2020

পাঠ-প্রতিক্রিয়াঃ চল

জনপ্রিয় হলেই যে মানুষের বই লেখা উচিৎ নয় অন্তিক মাহমুদের এই "চল" বইটা তার একটা উদাহরণ ।

যাই হোক বই নিয়ে বলার আগে "চল" কাহিনী নিয়ে একটু আলোচনা করি । বইয়ের মুল চরিত্র হচ্ছে রাকিব । বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র । তার খুব কাছের বান্ধবী মালীহা । মালীহাকে সে আবার খুব ভালোবাসে । রাকিবের বন্ধু আদিব।

ওদের আরও পরিচিত মানুষ লাবিব, ইফতি এবং মাহদী ।
গল্পের কাহিনী শুরু হয় মালীহাকে গায়েব হয়ে যায় । রাকিব মালীহাকে খুজতে শুরু করে । এক সময় সাগুফতাতে কাছে গিয়ে খোজ পায় যে গতকাল এখানে নাকি একটা মেয়ে এক্সিডেন্ট করেছিলো । পুলিশ এসে সেখানে গাজার একটা প্যাকেট পেয়েছিলো ।
পুলিশ সন্দেহ করে করে মালীহা হচ্ছে সেই গাজার সাপ্লাইয়ার। পুলিশ আরও সন্দেহ করে মাহদী সম্ভবত মালিহাকে কিডন্যাপ করেছে । ঘটনা ক্রমে রাকিব সব খোজ খবর নিতে শুরু করে এবং সে ঠিক করে যে মালীহার গ্রামের বাসা কুড়িগ্রাম যাবে । তার সাথে যুক্ত হয় মাহদী, ইফতি আদিব আর লাবিব ।
সেখানে যাওয়ার পথে একটা ছোটখাটো ফাইট হয় এক ড্রাগ লর্ডের সাথে । মালীহার গ্রামের বাসায় যাওয়ার পথে অনেক তথ্য বের হয়ে আসে । সেখান থেকে জানা যায় যে মাহদী হচ্ছে ড্রাগ বেঁচে ভার্সিটিতে। আদিব নিয়মিত ড্রাগ নেয় এবং বেঁচে । একদিন ড্রাগের চালান নিতে গিয়ে মালীহা দেখে ফেলে । তারপর আদিব তাকে ব্লাকমেইল করে এবং মালীহাকে বিজনেসে যুক্ত করে। তারপর মালীহাও ড্রাগ বেঁচতে শুরু করে । মালীহার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে জানা যায় যে মালীহা আসলে আর বেঁচে নেই । ঐদিন সাগুফতায় লাবিবের গাড়ির সাথে তার এক্সিডেন্ট হয়েছিলো । মালীহা তখন লাবিবকে বলে রিকোয়েস্ট করে তাকে যেন কুড়িগ্রামে দিয়ে আসে । আর লাবিব তাকে ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামে নিয়ে আসে । সেখানেই তার মৃত্যু হয় ।
এই হচ্ছে গল্প ।

এই গল্প যদি মানুষ অনলাইনে ফ্রিতেও পড়ে তারপরেও লেখককে গালি দিবে । আর আমি তো টাকা দিয়ে কিনে পড়েছি । তাহলে বুঝেন যে আমার পড়া শেষ করে কি করতে ইচ্ছে করতে ইচ্ছে করছিলো ।

চল এর প্রথম সমস্যা হচ্ছে এর কাহিনী । এতো সাদামাটা কাহিনী নিয়ে কোন ভাবেই বই বের করা ঠিক না । তারপরেও অনেক সময় খুব সাধারন কাহিনীও লেখকের বর্ণনার জোরে টিকে যায় । এখানেই সেটাও হয় নি । অন্তিক মাহমুদের কাহিনী বর্ণনা ধরন খুবই সাধারন এবং বিরক্তি কর !
দ্বিতীয় সমস্যা হচ্ছে চল লেখার ভাষা। কোন বই লেখার আগে লেখকদের ভাষা জ্ঞান একটু ভাল হওয়া দরকার । চাইলেই আমরা ঠিক যেভাবে মুখে মুখে কথা বলি সেই ভাষাতেই বই ছাপা যায় না । এটা ইদানীং কালের লেখকরা বুঝতে পারে না ।
তৃতীয় সমস্যা হচ্ছে কাহিনীর বিন্যাস । আপনি যখন একটা গল্প সাজাবেন তখন আপনার অবশ্যই কাহিনীর ভেতরে বাস্তবতা খুজে বের করতে হবে । যে কোন অস্বাভাবিক ঘটনার বর্ণনাও এমন ভাবে দিতে হবে যেন সেটা সত্যিই মনে হয় । মাহদীর বাসায় পুলিশ আসে তারপর মাহদীর বাসায় জানে যে সে ড্রাগ নিয়ে ব্যবসা করে, এটা এমন ভাবে তুলে ধরা হয়েছে যেন খুবই স্বাভাবিক একটা ঘটনা । বাবা মায়ের যে রকম রিএকশন দেখানো উচিৎ এখানে কিছুই দেখানো হয় নি । তারপর মালীহা লাবিবের গাড়িতে এক্সিডেন্ট করলো, মালীহা তাকে বলল হাসপাতালে না নিয়ে বাসায় নিয়ে যাও আর লাবীব তাতেই রাজি হয়ে গেল । আচ্ছা যেহেতু শরীর দিয়ে রক্ত বের হয় নি তাই নিয়ে যেতেই পারে । কিন্তু তাই বলে কুড়িগ্রাম নিয়ে যাবে ? সাগুফতা থেকে মোহাম্মাদপুরে নিয়ে যেতেই পারে তাই বলে কুড়িগ্রাম নিয়ে যাবে ? কি হাস্যকর ! লেখক লেখার সময় কি একটুও এই ব্যাপার গুলো ভেবে দেখে নাই ?
সর্ব শেষ ব্যাপারটা হচ্ছে লেখক লেখায় একটা অন্য ফ্লেভার নিয়ে আসার চেষ্টা করেছেন বাটারফ্লাই ইফেক্ট নিয়ে এসে যদিও সেটা একেবারেই মাঠে মারা গেছে । আপনারা এন্ড্রোয়েডের চয়েজ নামের একটা গেমের কথা শুনে শুনেছেন । গেমটা এমন যে আপনি ঠিক করবেন  যে সামনের কাহিনী কোন দিকে যাবে । একটা উদাহরন দেই, ধরুন আপনি একটা ক্লাবে গেলেন । সেখানে গিয়ে দেখলেন যে একটা হান্ডসাম ছেলে । এখন আপনার সামনে দুইটা অপশন আসবে । এক হচ্ছে আপনি ছেলেটার কাছে লেগেন । তার সাথে ভাব জমালেন অথবা আপনি কেবল ড্রিংকসই করলেন । যেইটা অপশান নিবেন এর পরের কাহিনীই তেমনই হবে ।
অন্তিত মাহমুদের চলেও এই রকম কিছু অধ্যায় আছে । একটা অধ্যায় শেষ করে মাঝে মাঝে এই রকম তিনটা অপশন আসে । আপনি যেটা ভাববেন সেই অধ্যায়টা পড়বেন । বাকি দুইটা পড়বেন না । বইয়ে গেমগেম একটা ফ্লেভার নিয়ে আসার চেষ্টা । কিন্তু সেটা মোটেও আসে নি । সেটা আনা কোন ভাবেই সম্ভব না । কারণ গেমে আপনি যে অপশনটা বেছে নিবেন কাহিনী সে অপশন নিয়ে এগিয়ে যাবে । দুই অপশন যাবে দুই দিকে । কিন্তু এখানে অপশন যাই নেন না পরে পরে সব কাহিনী একই দিকে যায় । 

অন্তিক মাহমুদ কার্টুনিস্ট কমিক্স তৈরি আর ইউটিউবার হিসাবে বেশ চমৎকার । তার কমিক্স আমি পড়েছি তার বানানো ভিডিও আমি দেখেছি । সেগুলো আমার কাছে চমৎকার মনে হয়েছে । কিন্তু তার লেখা বই একেবারেই অখাদ্য মনে হয়েছে । 

No comments:

Post a Comment